বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম ২০২৫ সালে সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব অনুযায়ী, গত বছরজুড়ে খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১২৭ দশমিক ২ পয়েন্টে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ সময় খাদ্যশস্য ও চিনির দামে নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলেও ভোজ্যতেল ও দুগ্ধজাত পণ্যের উচ্চমূল্য সে প্রভাবকে ছাপিয়ে গেছে। এ কারণে গত বছর খাদ্যপণ্যের বার্ষিক গড় মূল্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল। খবর রয়টার্স।
এফএওর মূল্যসূচক মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হওয়া খাদ্যপণ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। সংস্থাটি আরো জানায়, দুগ্ধজাত পণ্য, মাংস ও ভোজ্যতেলের দরপতনের কারণে ডিসেম্বরে টানা চতুর্থ মাসের মতো বিশ্বব্যাপী খাদ্যমূল্য কমেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সবচেয়ে কম গড় মূল্য।
গত মাসে খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১২৪ দশমিক ৩ পয়েন্টে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নভেম্বরের ১২৫ দশমিক ১ পয়েন্টের তুলনায় কম।
বিশ্বব্যাপী ডিসেম্বরে দুগ্ধজাত পণ্যের গড় মূল্যসূচক ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। ইউরোপে ক্রিমের প্রাপ্যতা বাড়ায় মাখনের দামে বড় দরপতন এ সূচক নিম্নমুখী হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে পুরো ২০২৫ সালজুড়ে দুগ্ধপণ্যের গড় মূল্য ২০২৪ সালের তুলনায় ১৩ দশমিক ২ শতাংশ বেশি ছিল। বছরের প্রথম দিকে শক্তিশালী আমদানি চাহিদা ও সরবরাহ সীমিত থাকাই এর প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে এফএও।
ডিসেম্বরে মাংসের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। এ সময় গরু ও পোলট্রি মাংসের দামে পতন সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। তবে বার্ষিক হিসাবে ২০২৫ সালে মাংসের মূল্যসূচক আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেশি ছিল। বিশ্লেষকরা জানান, বৈশ্বিক চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী থাকা এবং প্রাণীর রোগ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এ খাতে দামকে ঊর্ধ্বমুখী করে রাখে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ডিসেম্বরে ভোজ্যতেলের দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে ছয় মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। এ সময় পাম অয়েলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিলেও সয়াবিন, রেপসিড ও সূর্যমুখী তেলের দাম কম ছিল। তবে পুরো ২০২৫ সালে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক ২০২৪ সালের তুলনায় গড়ে ১৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি ছিল।
এফএওর খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক ডিসেম্বরে ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। কৃষ্ণসাগর অঞ্চল দিয়ে রফতানিপ্রবাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এ সময় গমের দাম বেশি ছিল। একই সঙ্গে ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রে ইথানল উৎপাদন শক্তিশালী থাকায় ভুট্টার দামও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তবে ২০২৫ সালজুড়ে খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক ২০২৪ সালের তুলনায় গড়ে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কম ছিল। এটি টানা তৃতীয় বছরের মতো বার্ষিক পতন এবং ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন বার্ষিক গড়।
বিশ্ববাজারে বেশ কয়েক মাস ধরে চিনির দামে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। তবে ডিসেম্বরে তা ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদন কমে যাওয়া পণ্যটির দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পুরো ২০২৫ সালে চিনির মূল্যসূচক ২০২৪ সালের তুলনায় ১৭ শতাংশ কমে পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে।